বিয়ে: ফিক্বাহ, ইতিহাস এবং দাসত্বের ছায়া

ফিক্বাহতে বিয়ের সম্পর্ক কে কীভাবে কনসেপচুয়ালাইজ করা হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে তা কীভাবে এক্সট্রীম হয়েছে – তা খুব ইন্টারেস্টিং।

১০ শতাব্দীতে ইমাম আল জাসসাস বিয়ের সম্পর্ককে যতটা ফ্লেক্সিবিলিটি নিয়ে দেখেছেন, যেভাবে হাজবেন্ডের অথরিটিকে বিভিন্ন কন্ডিশান দিয়ে বেঁধে দিয়েছেন, যেখানে আপনি কিছুটা হলেও লেনিয়েন্সি দেখবেন মেয়েদের প্রতি,

১৪ শতাব্দীতে আসতে আসতে দেখবেন সে লেনিয়েন্সি চলে গিয়েছে, ভয়ানক রকম স্ট্রিক্ট হয়ে গিয়েছে সব।

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা পর্যন্ত আসতে আসতে বিয়ের সম্পর্ককে তখন দাসের সাথে মুনিবের সম্পর্কের তুলনায় নিয়ে আসা হয়েছে।

১৩/১৪ শতাব্দী থেকেই খুব জোড়েসোরে শরীয়াহ আইনে বিয়ে সম্পর্কিত রুলিংসগুলোকে রিভাইজ করা হয়েছে, স্টাবলিশড করা হয়েছে দাস-মুনিব সম্পর্ককে স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়ে।

মেয়েদেরকে নিয়েই শুধু না, ইসলাম নিয়ে, শরীয়াহ নিয়ে আমরা যা পড়ি, তার মধ্যে প্যারালাল ইতিহাসের পড়াটা মিসিং।

শরীয়াহ আর ইতিহাস এই দুইকে সম্পূর্ণ সেপারেট করে পড়ানো হয়।

এর ফলে যা হয়- ইমাম তাইমিয়্যা পর্যন্ত আসতে আসতে কেনো একটা বিয়েতে হাজবেন্ড-ওয়াইফের রিলেশানশীপের বিভিন্ন ডাইনামিক্সকে দাস-মুনিবের রিলেশানশীপের স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে মাপতে শুরু করা হলো – সেই আলোচনাটা মিসিং থেকে যায়।

যেমন এখন ফিক্বাহতে নাফাক্বা বা একজন ওয়াইফের ফাইনানশিয়াল নীড-কে একটা বেয়ার মিনিমাম চাহিদা হিসেবে ডিফাইন করা হয়, অনেক ফুক্বাহা তো বলেন যে বউ তিনবেলা খেতে পারলেই হবে, গায়ে কাপড় থাকলেই হবে, মাথায় ছাদ থাকলেই হবে, ব্যাস,

এর বিনিময়ে এই বউকে আল্লাহ’র পরেই তার জামাই’র কথা শুনতে হবে (আসলেই এগুলো সব ফিক্বাহতে আছে এবং দেশে দেশে কোর্টে কোর্টে মুসলিম পারিবারিক আইনের মামলাগুলোতে এগুলো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়),

এই যে অবস্থা,

এটা কীভাবে হলো?

কারণ মূলে গিয়ে যেহেতু কুর’আনে আল্লাহ্‌ বিয়েকে যেভাবে মিউচুয়াল রিলেশানশীপ হিসেবে দেখিয়েছেন তা থেকে নামতে নামতে,

নামতে নামতে,

ফিক্বাহতে ১৪ শতাব্দীর দিকে এসে একদম শক্তভাবে ধরে নেয়া হয়েছে বিয়ে মানে দাস-মুনিবের সম্পর্কের মত।

এই যে ইতিহাসে সময়ের সাথে সাথে ফিক্বাহ কীভাবে মেয়েদেরকে নিয়ে এক্সট্রীমে চলে গিয়েছে, কেনো গিয়েছে- সেই আলোচনা পুরাই মিসিং।

কীভাবে মুসলিমরা ভিতর থেকে এবং বাইরে থেকে ভয়ানক সব পলিটিক্যাল এবং সোশ্যাল টারময়েলের ভিতর দিয়ে গিয়েছে, এগুলো কীভাবে ‘আলিম, ‘উলামাদের পার্সপেক্টিভসকে চেইঞ্জ করেছে,

এগুলো কিছুই শরীয়া আইনের ডিসকাশনে পড়ানোও হয় না, জানানোও হয় না।

আলাদা করে ইতিহাস এমনভাবে পড়ানো হয় যেন ইতিহাসে কী ঘটেছে তার সাথে আসলে শরীয়াহ আইন কীভাবে ডেভেলপড হয়েছে তার যেন কোনো সম্পর্ক নাই!!

অথচ ১৪ শতাব্দী পর্যন্ত আসতে আসতে মুসলিমদের মধ্যে গ্রীক-রোমান আর পারসিয়ানদের মেয়ে বিষয়ক দর্শনই শুধু না, বানের পানির মত অন্যান্য আইডিয়া ঢুকেছে।

অন্যদিক দিয়ে যে বড় বড় চারটা সিভিল ওয়ার হয়েছে ৯ম শতাব্দীর মধ্যেই, তাছাড়া শিয়া-সুন্নী কনফ্লিক্টের শুরু, ক্রুসেডের যুদ্ধ, রিকন্‌কিস্তার ধাক্কা, চেঙ্গিস খান আর হালাকু খানের নেতৃত্বে মোংগলদের ইনভেশান,

এই এ ভয়ানক রকম উথাল পাতাল টাইম গিয়েছে মুসলিমদের সেই সময়ে,

এগুলো কীভাবে মেয়েদেরকে নিয়ে ‘আলিমদের কনসেপচুয়ালাইজেশানে ইফেক্ট করেছে-

তা নিয়ে কোনো কথা নাই।

বাই দ্য ওয়ে,

আমি ভাবছিলাম- দাসত্ব প্রথা তো নিষিদ্ধ হয়েছে।

তাহলে শরীয়াহ আইনে এখনো যেভাবে বিয়ে সম্পর্কিত অনেকগুলো রুলিংস দাস-মুনিব সম্পর্ককে স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিয়ে বানানো হয়েছে, সেগুলো নিয়ে কী করবো?!

নাকি এখনো অনেক সালাফী স্কলাররা যেভাবে প্রকাশ্যে বলছেন যে এখনো যুদ্ধবন্দীদেরকে দাস বানানো যাবে, এবং তা আমাদের দেশের একটা সিগনিফিকেন্ট অংশ বিশ্বাস করে এবং প্রচার করে,

তাদের মত ধরে নিবো যে দাসপ্রথা আসলে নিষিদ্ধ হয়নি??

কোনটা?

কী করবো আমরা?

Author

Previous Post
Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »