অর্থহীন নৃত্য

ডিয়ার আংকলস, আন্টিজ, এন্ড অল দোজ “দ্বীনি” আপুজ এন্ড ভাইয়াজ,

শুধু গায়কের সাথে ছবি?

এই যে নিন, প্যান্ট শার্ট পড়া ছবিও দিয়ে দিলাম।

সুবিধা করে দিলাম, এখন প্রমাণ দিতে পারবেন- এই মেয়ে প্যান্ট শার্ট পড়ে, গায়কের সাথে ছবি তুলে, এই মেয়ে রিলিজিয়াস স্কলার হয় কী করে?

আপনাদের এই আপত্তির জায়গাটাতে আমি একশতে এক হাজার পার্সেন্ট একমত, এবং এটাই আমি আপনাদেরকে বলতে চেষ্টা করি- আপনাদের চিন্তাভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র “স্কলার”দের কাছে বন্ধক দিয়ে তাদের হাতে যে গেইটকীপিং এর চাবি তুলে দেন- এটা কেনো?

ধর্ম নিয়ে, সমাজ-নারী-রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করতে হলে “স্কলার” কেনো হতে হবে?

প্রশ্ন করতে হলে, কনসার্ন রেইজ করতে হলে যদি স্কলার হতে হয়, তাহলে একটা সাধারণ মেয়ে নিজের প্রশ্ন বা কনসার্ন রেইজ করবে কীভাবে?

“তোমার সিরিয়াস ইমেজটা নষ্ট করোনা এভাবে, ধর্ম নিয়ে পড়ালেখায় তোমার মত মেয়ে স্কলার নাই”- এসব কথা বলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেই আমি খুশী হয়ে যাবো ভেবেছেন?

না, খুশী হইনাই।

আমাকে স্কলার বানায়ে যখন দশটা মেয়ে থেকে আলাদা বানায়ে ফেলছেন, তখন বাকী সেই দশটা মেয়ে কথা বলার জায়গা হারায়ে ফেলে। আমি মেয়ে হয়ে মেয়েদের এমন ক্ষতি কেমনে করি?

তারচে’ আপনাকেই জিজ্ঞেস করি, নাই কেনো মেয়ে স্কলার?

আপনাদের সমাজ পারে নাই কেনো বানাতে? বা এখনো পারছেনা কেনো?

আর “রিলিজিয়াস” পার্ট-

উঁহু, আপনি আমার উপর ‘রিলিজিয়াস’ লেবেল চাপিয়ে দিয়ে আমাকে আপনাদের ঘরানার মানুষ ‘ক্লেইম’ করতে চাইলেই আমি সে ইমেজ তৈরী হতে দিবো কেনো?

ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করতে হলে আমাকে “রিলিজিয়াস” কেনো হতে হবে?

রিলিজিয়াস লেবেলটা আপনাদের পকেটেই রেখে দেন। আপনাদের লাগবে। বিক্রি করে কিছুমিছু কিনে খাবেন জনতার মেলা থেকে।

আমাকে আমার মত থাকতে দেন- গন কেইস।

আমি গন কেইসই হবো।

আজকে বিপ্লব নিয়ে চিল্লাবো, কালকে প্রেম নিয়ে কবিতা লিখবো, তো পরশু জিজ্ঞেস করবো ধর্মের পপুলার ন্যারেটিভস এ মেয়েদেরকে এমন হাফ-হিউম্যান বানায়ে রাখা হইছে কেনো?

আপনি আজকে আমার একটা স্কলার স্কলার ইমেজ বানাবেন। তারপর কালকে সেই ইমেজ বিক্রি করবেন নিজের স্বার্থে।

তা হবে না।

বিক্রি হবো বলে তো স্বাধীন হয়ে জন্মিনি এই দুনিয়ায়।

ধর্মকে প্রশ্ন করার জন্য প্রশ্নকর্তার উপর যে স্ট্যাটাস কো চাপিয়ে দিয়ে গেইটকীপিং করেন আপনারা, সেই গেইটের ক্যাথা পুড়ি আমি।

না। গালি দিয়েও হবেনা। মাথায় হাত বুলিয়েও হবে না।

যে বাধ্যগত মেয়েমানুষ খুঁজছেন আমার মধ্যে, যাকে আপনাদের মত করে “গড়ে-পিঠে” নিতে চাইছেন আমার জন্ম থেকে, তাদের কারো আকাঙ্ক্ষিত বালিকা-স্কলার হতে আমার বয়ে গেছে।

বাই দ্য ওয়ে, আপনাদের টায়ার্ড লাগে না কমপ্লেইন করতে করতে?

আমার ছোটবেলা থেকেই তো চেষ্টা করে যাচ্ছেন আমাকে লাইনে আনতে। এখন দুইবাচ্চার মা হয়ে গেছি, একচল্লিশ বছর চলছে, বুড়া হয়ে গেছি বলা যায়, আর কত চেষ্টা করবেন?

আপনাদের কমপ্লেইনে কখনো কাজ হয়েছে এ পর্যন্ত?

একবার মাত্র লেখা বন্ধ করেছিলাম যখন ডিবি’র লোকেরা বাসায় এসে আব্বুকে ঐ প্যারালাইজড অবস্থাতেই নিয়ে যাওয়ার থ্রেট দিয়েছিলো।

এখন তো আর আব্বু নাই।

আম্মুর কাছে জামাত, ধর্ম’র প্রশ্নে আমি একরকম ত্যাজ্য সন্তান হয়ে আছি সেই ছোটবেলা থেকেই। এখন তাইলে আম্মুর কাছে নিয়ম করে কমপ্লেইন করে কী ফায়দা হাসিল করতে চান সেটা আমার কাছে এক বিরাট রহস্য!

এন্ড ডিয়ার আলফা-মেইল-গ্যাংগস,

আমাকে নিয়ে আপনাদের এত টেনশান না করলেও চলবে। যে মেয়ে শার্টপ্যান্ট পড়ে, গায়কের সাথে ছবি তুলে, আপনাদের “দ্বীনি” মেয়েদের সার্কেলে তার কোনো লেজিটিম্যাসি নাই।

তাই ভয় পাবেন না, আপনারা যে মাসনা-ছুলাসা বহুবিবাহ হোস্টেল খুলেছেন, সেই হোস্টেলের রিক্রুটমেন্টে অন্ততঃ আমার কারণে টান পড়বে বলে মনে হয় না।

শাহবাগীদের কাছে আমি জামাতী, জামাতীদের কাছে আমি ফেমিনিষ্ট, ফেমিনিষ্টসদের কাছে আমি ইসলামিষ্ট, ইসলামিষ্টদের কাছে আমি ওয়েষ্টার্ন, ওয়েষ্টার্নদের কাছে আমি ব্রাউন স্কীন, ব্রাউন স্কীনদের কাছে আমি আউটসাইডার… এই যে একটা বৃত্তের মত সার্কেল তৈরি হয়েছে,

আমি এই বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে বৃত্তের ভিতরে আমাকে নিয়ে আপনাদের নৃত্য দেখি।

অর্থহীন নৃত্য।

দেখেন কেমন কুল্‌ হয়ে বসে আছি গাছের তলে! আপনাদের নৃত্যে কোনো কাজ দিচ্ছে বলে মনে হয় আপনাদের?!

Author

Previous Post
Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »