১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা আজকাল কেউ কেউ অস্বীকার করলে আওয়ামী লীগের লোকেরা এত অবাক হবার ভান না করলেই ভালো। আপনারা তো এই জুলাই মাসে, চোখের সামনে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডও এখন অস্বীকার করছেন। ডঃ ইউনুসের একটা বক্তব্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে মেটিকুলাসলি প্রচার করে রীতিমত বলতে চেষ্টা করছেন যে জুলাই এর হত্যাকাণ্ডগুলোতে হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থকদের কোন দায় নাই, এটা অন্য কোন প্ল্যানের অংশ।
চোখের সামনে আমরা দেখেছি এক পুলিশ কর্মকর্তা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্রিফিং করছেন, “গুলি করি একটা, মরে একটা, একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না, এইটাই সবচেয়ে আতংকের বিষয়”। এই ভিডিও খণ্ডটির বিষয়ে মেটিকুলাস ভ্রাতা ভগ্নীদের বক্তব্য অস্পষ্ট। আপনারা বাঙালি জাতির মুক্তি নিয়ে এত সচেতন ব্যক্তিরাও মুখ ফুটে এইটা এখনো একবারও পরিষ্কারভাবে লিখতে পারলেন না যে, বাংলাদেশের আজকের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির দায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনার। তিনি আরো দুই সপ্তাহ আগেই ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর করলে আজকে এই পরিস্থিতি হয় না। কেন বাংলাদেশ ২০২৪ সালে এসেও রাজনৈতিক সহিংসতায়, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কারী বাহিনীকে দেশের মানুষের বুকে গুলি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হবে? রাজনীতি কেন সহিংস হবে?
আপনারা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করেন, আর আমাদের আরেক শ্রেণীর ভ্রাতা ভগ্নীরা অস্বীকার করে ৭১ এর অত্যাচার, নির্মমতা।
অবাক হবার ভান করবেন না। বাংলাদেশের মানুষের জীবন আপনাদের কারো কাছে আপনাদের মতাদর্শের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না। নিরস্ত্র মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা দেখেও ২০২৪ এ একদল নীরব কবির ভূমিকায় চলে গেছিলেন, অথবা সরবে মেট্রো রেলের জন্য হাহাকার করছিলেন। ১৯৭১ এ যারা নীরবে অথবা সরবে নিরস্ত্র মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতনকে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন, তাদের সাথে আপনাদের পার্থক্য আমি দেখতে পাই না।
আসলে মত পথের ভিন্নতা তো থাকবেই। সবার ভিন্ন ভিন্ন রাজনীতিও থাকবে। কিন্তু, কিছু কিছু ব্যাপারে আসলে বাংলাদেশের মানুষের শক্ত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
আপনার রাজনীতি যা ই হোক না কেন, নিরস্ত্র সিভিলিয়ানের ওপর সশস্ত্র হামলাকে আপনি কোন সালেই কোন কালেই সমর্থন করবেন না; এই বিষয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে ইচ্ছুক সমস্ত দলগুলোর একমত হতে হবে।
২০২৪ এর পরের বাংলাদেশের রাজনীতি হওয়া উচিত ছিলো দেশের মানুষকে সহিংস রাজনীতি থেকে রক্ষা করার রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের নামে দেশের মানুষকে বিভক্ত করার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ তৈরি করেছিলো সেইখান থেকে দেশের মানুষকে বের করে আনবার কথা ২০২৪ এর পরের রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট দের। অথচ, জামায়াত এবং তার আশপাশের লোকেদেরকে দেখছি এবার ২০২৪ এর পরের রাজনীতিটা না ধরে তারা নিজেদের কবরের দিকে নিজেরাই হেঁটে হেঁটে চলে যাচ্ছেন। হোয়াটস রঙ উইথ ইয়ু ডিয়ার ভ্রাতা এবং ভগ্নীগণ?
১৯৭১ এ আওয়ামী লীগ ইতিহাসের সঠিক অংশে ছিলো, সুতরাং তাদের পক্ষে বারবার ৭১ টেনে আনাটা লাভজনক। তারা সেই লাভের সরবোচ্চ তুলে ফেলেছে। ২০২৪ এর জুলাই তাদের মুক্তিযুদ্ধের একপাক্ষিক বয়ানের রাস্তাটা পিচ্ছিল করে তুলেছিলো। কিন্তু, জামায়াতের লোকেদের এইটা ভালো লাগছে না, এইজন্য উনারা হুদাই ৭১ নিয়ে নাড়াচাড়া করতেছেন। ভাই, ৭১ এ আপনাদের ভূমিকা সমস্যাজনক ছিলো, ৭১ এর ভূমিকা নিয়ে আপনাদের মাফ চাওয়া উচিত কি উচিত না এসব নিয়ে আপনাদের নিজেদের মধ্যেও অনেক সময় আলোচনা হতো। ২০২৪ এর পরে যদি আপনাদের এই সংকোচ কেটে গিয়ে থাকে, তাহলে বলবো, ভুল করছেন। আপনারা এখন ৭১ কে প্রাসঙ্গিক করে তুলছেন যা আওয়ামী লীগের ফেভারে যাচ্ছে। আপনাদের একটা ঘাড়ত্যাড়ামি স্বভাব আছে, যার কারণেই এইটা করতেছেন আপনারা। এই যে আওয়ামী লীগের লোকজন আবার ১৯৭১ দেখিয়ে দেশপ্রেম প্রদর্শনীর সুযোগ পেয়ে গেছে, ২০২৪ এর পরের রাজনীতিতে তাদের আড়ষ্ট পা না ফেলে তাদেরকে যে আবার ৭১ এ বিচরণ করার সুযোগ করে দিয়েছে এই ইলিয়াস এন্ড গং; এইজন্য অমিপিয়াল এন্ড গং এর পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
তারপর,
জুলাইয়ের আহতদের চিকিৎসা হচ্ছে? জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার কত দুর? রাজনৈতিক সহিংসতায় বাংলাদেশের মানুষকে আর কতদিন প্রাণ দিতে হবে? সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়ার রাজনীতি কে করবে?
Photo Credit: Al Jazeera