




দোকানের দরজা দিয়ে ভিতরে পা দিয়েই থমকে গিয়েছিলাম।
মনে হচ্ছিলো যেন ম্যাজিক্যাল কোনো দরজা দিয়ে ঢুকে গিয়েছি আমার স্বপ্নের দুনিয়ায়!
বই আর বই, চারিদিকে বই!
আলফ লাইলা ওয়া লাইলা/ এরাবিয়ান নাইটস’র সেই প্রায় তিনশ বছর আগের অরিজিনাল ইংলিশ ট্রান্সলেশানের কপি থেকে শুরু করে একদম সদ্য পাবলিশড ইরানিয়ান রাইটার কাভেহ আকবার এর Martyr পর্যন্ত হেন কোনো বই নেই যা এই দোকানে নেই!
আমি এ আইল ঐ আইল ধরে হাঁটছিলাম খালি।
ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলাম পুরাতন বই, নতুন বই।
পুরানো বইয়ের সেকশানে হাত ছুঁতেও মানা।
কারন অনেক বইয়ের পৃষ্ঠা একদম ত্যানা ত্যানা হয়ে আছে।
ধরলেই ছিঁড়ে যাবে যেনো!
পুরানো এসব বইয়ের দাম নতুন বইয়ের দামের চেয়েও অনেক বেশী!
পৃথিবীতে বই কিনে কেউ দেওলিয়া হয়না- কথাটা একদম মিথ্যা কথা।
বই কেনার লোভ সামলাতে না পারলেই দেখি আমার একাউন্ট তলানীতে চলে আসে!
কিন্তু বই যে সবচে’ ক্লোজেষ্ট ফ্রেন্ড- এটা শুধু সত্যই না, বই হচ্ছে আসলে ম্যাজিক্যাল ডোরওয়ে।
এক একটা বইয়ের মলাট উল্টালেই আপনি সময় পার হয়ে, চেনা জানা জগৎ পার হয়ে, মুহুর্তে চলে যেতে পারেন অন্য দুনিয়ায়।
অন্য একজন মানুষের চোখ দিয়ে দেখতে পারেন তার জগত, তার সময়, তার চারপাশের মানুষদের জীবন!
আপনি যাকে চিনেন না, জানেন না, যে হয়তো কয়েকশ বছর আগেই এই পৃথিবী ছেঁড়ে চলে গেছে, কিন্তু বইয়ের অক্ষরের ভিতর দিয়ে আপনি তার স্বপ্ন, তার চিন্তা, ভাবনা, তার কষ্ট, তার আনন্দ-হাসি-ভালবাসা, তার হৃদয়ের আকুলতা, কনফিউশান, ডিলেমা, তার চাওয়া-পাওয়া বা না পাওয়া, অতৃপ্তি, অনুভূতি সব কেমন জীবন্ত ছুঁতে পারেন যেনো!
পৃথিবীতে এর চেয়ে ম্যাজিক্যাল, এর চেয়ে ফ্যাসিনেটিং আর কী হতে পারে!