গত এক/দেড় মাস, সোশ্যাল মিডিয়ার আপডেটের বাইরে ছিলাম। অন্য কোন মিডিয়া থেইকা নিজে ক্যালকুলেট করার মতো ফিড, আস্থা কখনোই পাই নাই। ২ দিন আগে মাত্র রেগুলার হইয়া যা যা অব্জার্ভ করলাম- তাতে নানান কিছু মাথায় টোকা দিতে শুরু করলেও- ইগনোর করতেছিলাম। বাংলাদেশের পলিটিক্স মেইনলি লবিং এরই পলিটিক্স, বুঝলাম। কিন্তু আমার আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ ‘পলিটিক্স’ ইটসেল্ফ জিনিসটাই হইল ‘নেগোশিয়েশনের পলিটিক্স’।
নেগোসিয়েশন আর লবিং এ তফাত আছে।
যাউকগা- পারসোনাল অবজারভেশনের ফলাফল হইল-
১. নানান কিছুতে বেনেফিট অব ডাউট দিলেও, আজকের পর থেইকা এই ইন্টেরিম গম্মেন্টের প্রত্যেকটা কার্যকলাপ আমি সন্দেহের চোখেই দেখবো।
তারা আদৌ আর কোন সৌল অথরিটি এই দেশের?
নাকি তারা নানান প্রেসার গ্রুপের কনফিউজড, ভাংগাচোরা, বেইকা যাওয়া ভয়েস?
২. স্টুডেন্ট-পাব্লিক যে ঐক্য (জা.নাগ.কম, বৈছাআ) এখনো কয়েকটা প্লাটফর্ম এ জিন্দা আছে- তাদের কেউই এই কনফিউশানের বাইরে না। এইটা আমাদের মতো আম-জনতার চোখে থাকতে পারবে না আর তারা। বেনিফিট অব ডাউট উঠানামা করবে।
কিন্তু দেশের স্বার্থে তাদের প্রতি এই এডভাইজ যে- তারা নিজেদের এনাফ নেগোশিয়েট করার মতো উপযুক্ত কইরা তুলুক। ফাইনালি নেগোসিয়েশনই হইল পলিটিক্স। মানে- দেন-দরবার! পাবলিকের সাথে পাবলিকলি দেন-দরবার। গোপনে গোপনে না। বাংলাদেশের মানুষের পলিটিক্যাল আইকিউ অনেক হাই! নানান টাইপের পিপল আছে, সিন্ডিকেট আছে। থাকবেই। কারে কদ্দুর কনভিন্স করতে পারতেছেন, সেইটা আগামী বছরগুলায় ম্যাটার করবে।
৩. এলিট বিএনপি- যারা কিছু অথরিটি দ্বারা স্পন্সরড, তাদেরও আসলে হামবড়া ভাব থেইকা সইরা আসা উচিৎ। হাসিনাশাহী খেদানোর পরে উনাদের বুইঝা ফেলা উচিৎ তাদের হিসাবের ভোট-ব্যাংকগুলা এখন আর আগের সেই ‘নিরুপায়’/অসহায় দশায় আর মোটেও নাই। এমন ভাবলে চরম ভুল হবে উনাদের! ![]()
৪. রাগান্বিত ধর্মীয় পলিটিক্যাল গোষ্ঠিরা। উনাদের গ্লোবাল & ওপেন হওয়া দরকার আরো। উনারা নিজেদের লেভেল ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ডে নিয়া যাওয়ার বদলে এবং সেই ক্যাপাসিটি থাকার পরেও, মিডিয়ার ট্র্যাপের ছাগলটা হয়েই থাকেন, কিংবা ই*ডিয়ার বদমাইশ মিডিয়ার লাইঠ্যালের মতো আচরণ করেন, যা খুব দুঃখজনক!
এতে আসলে কার কি লাভ হয়!?
৫. জামাত? আওয়ামীর যমজ ব্রো অর সিস! ১০০ বার আই বিলিভ প্রাক্তন ছালী & আলী রা জামাতে জয়েন করছে। এরা সবচে কানিং & সুযোগসন্ধানী কিন্তু তারা নিজেদের যে গুনতির মধ্যে রাখতে পারতেছে এইটা একটা প্রবল সাকসেস! জামাত রে টেক্কা দিতে পারবে বাংলাদেশের হাইলি পলিটিক্যাল পিপলই একমাত্র, রুট লেভেলের খাইটা খাওয়া মানুষ, এলিট বিএন*পি কিংবা কোন পড়ালেখা গুইলা খাওয়া বাম উইং না। বাংলাদেশের কন্টেক্সটে অসম্ভব প্রায়।
৬. বাম-ফোরামস- পুরান শয়তান আওয়ামী-হাসিনার ব্যাকাপ দেয়া বামগুলা তো পরিত্যক্ত এখন জনতার কাছে। এদেরে আর কেউ কোনদিন ট্রাস্টও করবে না!
এই শয়তানগুলার বাইরে জোনায়েদ সাকীরা (গণ সংহতি) মেইবি খানিকটা আরবান পিপলের মনোযোগ কাড়তে টারতে পারছিলেন, বা গুড/সোবার (এখন আর আওয়ামী থাকতে চান না যারা) সেইসব আওয়ামীলীগারদের অল্প টানতে পারবেন কিন্তু উনারা আওয়ামীটাইজড হয়ে যাবেন নাকি উনারা আরবান কালচারাল এলিটদেরকে তাদের কাতারে আনতে পারবেন – বলা শক্ত! এইখানে কিছু দড়ি টানাটানি চলবে আগামী বছর।
৬.ক. বাম-এক্টিভিস্টঃ
বামেদের অল্প কয়েকজন এক্টিভিস্ট ছাড়া, যারা নিজেদেরকে দ্রুত প্রো-পিপল হিসাবে প্রুভড & আপডেট করে নিতে পারছিলেন, তারা বাদে- জুলাইয়ের পরে কোনপ্রকার বেইল পাইতেছেন কি এই ঘরানার কেউ, আদৌ?
আজকের শহীদ মিনারের সমাবেশ ও ঘোষণাপত্রের ঘোষণায় পরিস্কার উলটা স্ট্যান্ড নিতে দেখা গেছে তাদের। সমাবেশের ‘টাকা-সদাই’ কইত্থেকা আসতেছে এই জাতীয় ওল্ড ক্লিশে পলিটিক্স করতে চাইছেন তারা।
এইটা একদম একই সুরে সবাই করতেছিল, মজা পাইতেছিলাম এই “ঐক্যতান” শুইনা।
কিন্তু এইটা তো একটা প্রশ্ন বটেই। জা.নাগ.কম. বা বৈছা উত্তর দিলে দিবে। মানুশ তো ধইরাই নেয় যে, স্টুডেন্টদের টাকা নাই। ফলে কোশ্চেন ফানি শুনাইলেও করাটা জায়েজ আছে।
বাট, এন্টি-আওয়ামী এবং অভ্যুত্থানের সাথে সরাসরি শতভাগ জড়িত ছিলেন এমন বামদের এই এডভাইসটা শোনা উচিত যে – আপনেরা আপনাদের ফানি পলিটিক্স পাল্টায়া পিপলের পলিটিক্সটা করেন বরং। বাংলাদেশি লেফট ঘরানা বানান, অন্য কারও খেদমতগার না হইয়া। ইউ হ্যাভ ক্যালিবার কিন্তু সেইটা আপনাদের ব্যক্তি লেভেলে থাকলে থাকতে পারে; সাংগঠনিক লেভেলে আপনাদের ডাকে তো লোক আসে না। কেন আসে না? এতো আন্তরিক খাটাখাটনির পরেও? ভাইবেন!
জুলাইয়ে আপ্নেরা বাংলাদেশের বা ঢাকার খাইটা খাওয়া মানুষদের সংগঠনের ব্যানারে টানতে পারেন নাই, ইন ফ্যাক্ট কেউইই পারে নাই।
কেন পারে নাই? ভাইবেন। কে কে পারে বাংলাদেশে- তাও ভাইবেন।
*****************************
বাংলাদেশবাদী পলিটিকাল এন্থুসিয়াস্ট একজন হিসাবে আমার কাছে বাংলাদেশের জনগণের এম্পাওয়ারমেন্টের উপরে আর কিছুই নাই!
এবং, আমার মতো হাজার-লক্ষজন আছে। কথাটা সকলেরই হিসাবে রাখা দরকার।
পাবলিক সামটাইমস নট অনলি দ্য প্রতিক্রিয়াশীল অথবা কেবলই “রিসিভার” কিংবা কোন একটা ‘প্যাসিভ’ ফিগার না।
বাংলাদেশের মানুষ তো একেবারেই না!
পিপল নিউট্রালি পক্ষপাতহীন থাকতে পারে না। এইগুলা সো কল্ড পোলিশড-আরবান মনস্কতা। বেসিক্যালি যা ভান বা ভন্ডামি মাত্র। রিয়াল না।
সো পিপলস হ্যাভ চয়েজ।
মাইন্ড ইট এন্ড রেস্পেক্ট ইট! এইটা আপনাদের নিউ ইয়ার রেজ্যুলেশন হওয়া উচিৎ![]()
ইংরাজি নয়া বছরের শুভেচ্ছা সকলেরে! ![]()
যদিও আমার ফিলিং হইতেছে আমার বচ্ছর শেষ হয় নাই, আধা মাত্র। ২০২৪ শেষ হবে আমার ধারণা আমার মতোন আরও অনেকেরই ২০২৫ এর জুলাইয়ে!