বেঁচে যাওয়ার কাফফারা

জুলাইয়ের কথা ভেবে কান্না পায়।

সারা ফেসবুক জুড়ে লাল দেখতে আবার সেই জুলাই মাসের কথা মনে পড়ে সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

আমার অফিসে বসে অনেক কাজ করা দরকার, তিন মাসের জন্য এমন এক জায়গায় এসেছি যেখানে আসবো সেটা দুই বছর আগেও শুধু স্বপ্ন ছিল। আমার অনেক কাজ করার কথা। যতখানি করছি তার থেকে আরো অনেক অনেক বেশি।

আবার বাসায় ফিরে মিটিং, ফোন, মিটিং। দিন রাত জেগে পুরা পৃথিবীর ৭/৮টা টাইমজোন মিলায়ে যোগাযোগ, কথা। বেশি কথা বললে আমার মাথা দপদপ করে। রাতে ঘুমাতে পারি না। আমার মত আরামপ্রিয়, নিজের ছোট সার্কেলে থাকা মানুষ এমন এক পরিসরে পড়বে চিন্তাও করা যায় না। মাঝেমধ্যে ভাবি, আর না।

কিন্তু ঐ যে, জুলাই!

জুলাইতে বিদেশের মাটিতে নিরাপদ থাকার কাফফারা আমাকে দিতেই হবে। আমি জুলাইতে ঢাকার রাস্তায় নামতে পারি নাই এই দুঃখ আমার কখনোই যাবে না। 

তাই থামি না। থামতে পারি না। এইযে এখন বসে বসে কাঁদছি অফিসে বসে। চোখ মুছে আবার মডেল রান করতে চলে যাবো।

বাসায় ফিরে এক গাদা মানুষের সাথে কথা বলতে হবে। জুলাইতে যদি শহীদ হতে পারতাম অনেক ধরণের দুনিয়াবি কষ্ট থেকে বেঁচে যেতাম। কাফফারাটা আজীবন দিয়েই যেতে হবে।

এই এক বছরে অনেকের সাথে সম্পর্ক গেছে, অনেকে দীর্ঘ সময় জুড়ে আমাকে চিনেও জুলাইয়ের পরে আমাকে শত্রু জ্ঞান করেছে। মক করেছে। গালি খেয়েছি *য়োরের বাচ্চা বলে। গায়ে লাগাই নি, ট্যান্ট্রামও করি নি। সন্দেহবাতিক লোকজন মনে করেন রাজনীতিতে বিশাল এক অসদুদ্দেশ্য আছে আমাদের, যেহেতু সব পারফেক্ট হচ্ছে না। মানুষ কেন মানুষকে চিনতে পারে না? আমরা সবাই জুলাইতে যা চেয়েছিলাম, যা ভেবেছিলাম সেখানেই আমি স্টিক করে গেছি। আর তো কিছু না। একটা ডিসিশন আমরা অনেকেই নিয়েছিলাম, সেই একই ডিসিশনে আমি রয়ে গেছি ভাই। আমি আমার অতীত, রুট ভুলি না।

এই জুলাইয়ের কারণে অনেকে ফেলে গেছে, অনেকে আবার কুড়িয়ে বুকে টেনে নিয়েছে। তো চলুক আর কি, মরে গেলে বুঝবো কাফফারা শেষ হয়েছে।

Author: মুনা হাফসা 

বাংলাদেশী পিএইচডি শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব ডেলওয়ার, ইউএসএ,

শহীদ পরিবারদের গল্পকথন নিয়ে ‘লেখা আছে অশ্রুজলে’ বইটির সহ-গ্রন্থক

Author

Previous Post
Translate »